মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) গত বুধবার সুদহার পূর্বাভাসের সঙ্গে সংগতি রেখে ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে। দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয় ফেডের নীতিনির্ধারণী ফোরাম ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি)। তবে মূল্যস্ফীতির কারণে আগামী বছর সুদহার কমানোর বিষয়ে ফেড কিছুটা অনমনীয় হতে পারে বলে জানা গেছে। খবর রয়টার্স।
সুদহার কমানোর পর এক সংবাদ সম্মেলনে ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতির উন্নতির ওপর সুদহার আরো কমানোর সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে। আমি মনে করি, আমরা এখন ভালো অবস্থায় এবং একটি নতুন পর্যায়ে আছি। সামনের দিনগুলোয় আমরা সুদহার কর্তনের বিষয়ে আরো সতর্ক থাকব।’ বিশ্লেষকদের মতে, পাওয়েলের এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট, নীতিনির্ধারকরা ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে ভাবতে শুরু করেছেন।
এদিকে সুদহার কমানোর বিষয়ে ফেড চেয়ারের সতর্ক মনোভাব ওয়াল স্ট্রিটের পুঁজিবাজারে প্রভাব ফেলেছে। বুধবার শেয়ারের দাম কমে গেছে এবং বন্ডের ইল্ড (মুনাফা) বেড়েছে। এছাড়া আগামী বছর সুদহার কতটা কমতে পারে তার পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
২০২২ সালে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এরপর কয়েক দফায় সুদহার বাড়ানোর পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় মূল্যস্ফীতি আশাব্যঞ্জক হারে কমছে না। বিশেষত বাসস্থানের খরচ ফেডের পূর্বাভাসের তুলনায় ধীরগতিতে উন্নতি করছে।
জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘মূল্যচাপ কমার ব্যাপারে ফেড আত্মবিশ্বাসী। তবে তিনি স্বীকার করেন, নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক, কর হ্রাস ও কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে পরিবর্তন করবে, তা নিয়ে ফেডের কর্মী ও নীতিনির্ধারকরা প্রাথমিকভাবে ভাবতে শুরু করেছেন।’
নীতিনির্ধারকরা এখন মনে করছেন, নতুন প্রশাসনের অধীনে আসন্ন অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তনে মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাসে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এটি আগের তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন, কারণ সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরো স্থিতিশীল ছিল।
নতুন পূর্বাভাসে ফেডের কর্মকর্তারা দেখিয়েছেন, খাদ্য ও জ্বালানি ব্যতীত ব্যক্তিগত ব্যবহারের খরচের মূল্যসূচক (কোর পিসিই) ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২ দশমিক ৫ শতাংশে স্থির থাকবে। চলতি বছর কোর পিসিই ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে ফেডের ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।
ট্রিপল আই ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ করিম বাস্তা বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের পর কোর পিসিই মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ও ঊর্ধ্বগামী ঝুঁকি উভয়ই ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এটি নতুন সরকারি নীতির সম্ভাব্য প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।’